শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশাশুনিতে সেনাবাহিনীর বিচক্ষণ হস্তক্ষেপে ৩০০০ বিঘা জমির মাছ ও ফসল রক্ষা পেল আশাশুনিতে মানব পাচার মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ২ আশাশুনিতে রোজা ও যাকাতের  তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত আশাশুনিতে জেন্ডার সংবেদনশীল ঝুঁকি নিরূপণ ও হ্রাস প্রনয়ণ পরিকল্পনা সভা ফরিদপুর ১ জামায়াতে প্রার্থী আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ফরিদপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন আশাশুনিতে ৫ আসামী গ্রেফতার, গাজা উদ্ধার ফরিদপুরে মানব পাচার মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার ফরিদপুরের বানা বাজারে অগ্নিকান্ডে ১০টি দোকান পুড়ে ছাই  বোয়ালমারীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে কয়রার রেজওয়ান ভর্তি খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

Coder Boss
  • Update Time : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৭২ Time View

মোক্তার হোসেন, কয়রা (খুলনা ) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাতহালিয়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে রেজওয়ান আহমেদ গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এই খবরে রেজওয়ান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে সীমাহীন আনন্দের ঝিলিক। তবে একই সঙ্গে তাঁদের মনে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা। মেডিকেলে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে তাঁর পরিবার। অর্থের অভাবে মেধাবী এই তরুণের স্বপ্ন পূরণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অর্থাভাবে লড়াই করেই তাকে এ পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে আসছে হয়েছে।বাবা ইব্রাহিম খলিল স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে অল্প বেতনে চাকরি করেন এবং মা আছিয়া খাতুন গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রেজওয়ান মেজ। ভাইবোনেরা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছেন।
রেজওয়ান আহমেদের বাবা ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমি অল্প বেতনে চাকরি করি। ২০১৫ সালে হঠাৎ আমার হৃদ্‌রোগ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি দিতে হয়। ছেলেটার মেডিকেলে ভর্তি আর পড়ালেখার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। আগামী মাসের ২ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে ছেলেকে ভর্তি করাতে হবে। এখনো ভর্তির টাকাই জোগাড় করতে পারিনি। বড্ড দুশ্চিন্তায় আছি।’
রেজওয়ান আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক না পাওয়ার মধ্যে বেড়ে উঠলেও তিনি শিক্ষাজীবনে প্রতিটি ধাপে সাফল্য পেয়েছেন। গ্রামের বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পাস করার পর ভর্তি হন এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ২০২১ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে খুলনা সুন্দরবন কলেজে ছেলেকে ভর্তি করান রেজওয়ানের বাবা। সেখানেও জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য আনেন রেজওয়ান। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
রেজওয়ানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাপড়ার মধ্যে আসবাব বলতে তেমন কিছু নেই। তবে তাঁর পড়ার জন্য একটি টেবিল ও চেয়ার আছে। ঘরের মধ্যে খাটের এক কোণেও সাজিয়ে রাখা কিছু বই। সেখানে আলাপকালে রেজওয়ানের মা আছিয়া খাতুন বলেন, ‘সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে ছেলেকে প্রাইভেট পড়তেও দিতে পারিনি। ছেলে আমার নিজের চেষ্টায় মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে সেখানে ভর্তি আর পড়ালেখার সার্বিক খরচ চালিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ ছেলেকে সহায়তা করতে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখেছি। প্রথমবার না পারলেও এবার আমি ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। আমার পরিবারের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় ।তাই পড়াশোনার জন্য সহযোগিতা করতে বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে স্বপ্ন পূরণ হবে,বলে আমি আশা রাখি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102