বিপ্লব বিশ্বাস,রাজবাড়ী সদর প্রতিনিধি:দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস্তবায়িত “শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীতে ৬ষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি খাত দ্রুত প্রসারমান। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের তরুণরা ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। সরকার তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যা বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।
১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে।
এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষকবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থীরা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।