নিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অঙ্গিকার করলেন ফরিদপুর ৩ আসনের ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-ফরিদপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় শহরের অম্বিকা ময়দানে জনগণের মুখোমুখি নামে অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভোটারদের সামনে প্রার্থীরা তাদের উন্নয়ন ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সুজন ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি লিয়াকত হোসেন কামালের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির এবং সহ সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম স্টালিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, আইনজীবী ও বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উন্মুক্ত পরিবেশ, যেখানে ভোটাররা সরাসরি প্রার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা তাদের সূচনা বক্তব্যে নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তারা নির্বাচিত হলে ফরিদপুরের সার্বিক উন্নয়ন, বেকারত্ব হ্রাস, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রার্থীরা।
দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘প্রশ্ন-উত্তর’ পর্ব। এ সময় ভোটাররা তাদের এলাকার বাস্তব সমস্যা—চিকিৎসাসেবার সংকট, সরকারি সেবায় হয়রানি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানহীনতা ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা—নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরাও তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের বক্তব্যে পাল্টা প্রশ্ন ও করতালির মাধ্যমে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নায়াব ইউসুফ আহমেদ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রফেসর মো. আবদুত তাওয়াব,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট
মো. কে. এম. ছরোয়ার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
রফিকুজ্জামান লায়েক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ।
আয়োজক সংস্থা সুজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা এবং সচেতন ভোটার তৈরির লক্ষ্যে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা যেন প্রতিশ্রুতির আড়ালে নয়, যোগ্যতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন—সেই উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেষপর্যায়ে উপস্থিত ভোটাররা জানান, এ ধরনের মুখোমুখি আলোচনা নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে